প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পতিত সরকারের আমলে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চরম জুলুম এবং অত্যাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে উপদেষ্টা তিতুমীর সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অতীতের ব্যর্থতা তুলে ধরেন:
আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা: তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাষ্ট্র সংস্কার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। পতিত সরকারের কোনো বৈধতা বা আইনি কাঠামো ছিল না বলেই তারা অবাধে লুটপাট চালিয়েছে।
বেকারত্ব ও অবকাঠামোগত লুটপাট: জনকল্যাণের নামে কেবল ভবন নির্মাণ করে অর্থ লুট করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে প্রতিটি পরিবারে বেকারত্বের অভিশাপ তৈরি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যন্ত্র থাকলেও চালনাকারী মেকানিক নেই।
নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার: নারীর উন্নয়নকে দেশের উন্নয়নের পরিমাপক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর যে পরিমাণ জুলুম হয়েছে তা বর্ণনাহীন। বর্তমান বাংলাদেশে 'সংখ্যালঘু' বলে কেউ থাকবে না, সবাই রাষ্ট্রের সমান নাগরিক হিসেবে পরিচিত হবে।
সেমিনারে খুলনা জেলার দাকোপ থেকে আসা কৃষক নিমাই কুমার রায় উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বনদস্যুদের আক্রমণ, অনুন্নত রাস্তাঘাট এবং স্বাস্থ্যসেবার দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে টেকসই উন্নয়নের দাবি জানান।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোটালীপাড়ার এই সেমিনার এবং উপদেষ্টার বক্তব্য ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের একটি দর্পণ হিসেবে কাজ করে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও কৃষি সমাজ (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়া অঞ্চলটি ছিল মূলত কৃষিপ্রধান এবং জলাভূমি বেষ্টিত। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়তে শুরু করে। ১৯০০ সালের সেই দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক অবকাঠামো পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে এই জনপদ।
স্বাধীনতা ও অধিকারের লড়াই (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জের বীরত্বগাথা অনস্বীকার্য। তবে ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে উপদেষ্টার বক্তব্যে যে 'পতিত সরকারের' কথা এসেছে, তা মূলত ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক নতুন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করেছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন দিগন্ত: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশে যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে, গোপালগঞ্জ এখন সেই পরিবর্তনেরই অংশ। ১৯০০ সালের পরাধীনতা থেকে ২০২৪-এর গণজাগরণ—সবকিছুর মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ২০২৬ সালে আবারও ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রাষ্ট্র সংস্কারকরা। কৃষক নিমাই কুমার রায়ের বক্তব্যে উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের যে আর্তনাদ উঠে এসেছে, তা ২০২৬ সালের উন্নত বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো রাষ্ট্রই তার নাগরিকদের একটি অংশকে 'সংখ্যালঘু' তকমা দিয়ে অবদমিত রেখে প্রকৃত উন্নয়ন করতে পারে না। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক বিভাজনের রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্বের ধারণা—বাংলাদেশের জন্য এক বড় মাইলফলক। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই নতুন সরকার যদি লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ করে কর্মসংস্থান ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তবেই জুলাই বিপ্লবের চেতনা সার্থক হবে।
সূত্র: ১. কোটালীপাড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আয়োজিত সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য (১৫ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীতে গোপালগঞ্জ অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |